চিনে নিন বিশ্বের প্রাচীনতম ৭টি অসাধারন গ্রন্থাগার

১. ভ্যাটিকান অ্যাপস্টিক গ্রন্থাগার

আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৪৭৫ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হলেও ইউরোপের অন্যতম এই গ্রন্থাগারটি বিশ্বের প্রাচীনতম গ্রন্থাগারগুলোর একটি।  ইতিহাস, দর্শন, আইন, বিজ্ঞান এবং ধর্ম বিষয়ে গবেষণার জন্য স্বনামধন্য এই গ্রন্থাগারটিতে নানা যুগের প্রায় ৭৫,০০০ হাতে লেখা বই ও ৮,৫০০ ইনকিউনাবুলা (মধ্যযুগে ছাপানো একধরনের বই) সহ প্রায় ১১ লক্ষ ছাপানো বই রয়েছে।

২. আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ গ্রন্থাগার

প্রাচীনতম গ্রন্থাগারগুলোর মাঝে প্রথমেই যে নামটি আসে তা হচ্ছে আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ গ্রন্থাগার। প্রাচীন গ্রীস সভ্যতার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে এটি সুপরিচিত। খৃষ্টপূর্ব ৪৮ সালে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত এটিই ছিল শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি, দর্শন, আইন ও ধর্ম বিষয়ক নথি-পত্র, বই ও পান্ডুলিপির সর্ববৃহৎ সংগ্রহ।

৩. আশরবানিপল গ্রন্থাগার

প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাক) খ্রিষ্টপূর্ব ৭ম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত আশরবানিপল গ্রন্থাগারের (Royal Library of Ashurbanipal) নামকরণ করা হয়েছিল নিও এসিরিয়ান সম্রাজ্যের সর্বশেষ সম্রাট আশরবানিপলের নামানুসারে। ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ অস্টেন হেনরি লায়ারড গ্রন্থাগারটি আবিষ্কার করেন। এই গ্রন্থাগারে পাওয়া ৩০,০০০ এরও বেশি শিলালিপিগুলোর অধিকাংশই এখন ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

৪. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার

ভারতীয় উপমহাদেশ প্রাচীন জ্ঞানচর্চার তীর্থস্থান হিসেবে সুপরিচিত। আর ৪২৭ খৃষ্টাব্দে প্রতষ্ঠিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারটি ছিল তার কেন্দ্রস্থলে। বৌদ্ধ শাস্ত্রের সর্ববৃহৎ সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত এই গ্রন্থাগারটি তুর্কী আক্রমনে ধ্বংস হয়ে যায়। প্রচলিত রয়েছে, গ্রন্থাগারটি এতই বিশাল ছিল যে আগুনে পুড়ে পুরোপুরি ছাই হতে সেটির প্রায় কয়েক মাস সময় লেগে গিয়েছিল।

৫. সেইন্ট ক্যাথেরিন আশ্রম গ্রন্থাগার

৫৪৮-৫৬৫ খৃশটাব্দে নির্মিত সেইন্ট ক্যাথেরিন আশ্রম গ্রন্থাগার (Library of the Monastery of Saint Catherine) মিশরের সিনাই পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। প্রাচীন এই গ্রন্থাগারে সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাতে লেখা বই ও পান্ডুলিপির সংগ্রহ রয়েছে।

৬. চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় গ্রন্থাগার

মধ্যযুগের পান্ডুলিপি সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় গ্রন্থাগারটি ১৩৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রাগ শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছিল। অত্যাধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষনের জন্য গ্রন্থাগারটি ইউনেস্কো’র জিকজি মেমোরি অফ দি ওয়ার্ল্ড পুরস্কার পায়।

৭. অস্ট্রিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগার

ভিয়েনার হফবারগ প্রাসাদে ১৩৬৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগারে রয়েছে প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের প্রায় ৭৪ লক্ষ পান্ডুলিপি, বই, মানচিত্র ও সঙ্গীতের সংগ্রহ। এছাড়াও এখানে আছে একটি অনন্য গ্লোব যাদুঘর। প্রায় ৩৮০ টি গ্লোবের এই সংগ্রহশালার কিছু কিছু ৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

বাংলাদেশের লাইব্রেরী উন্নয়ন উদ্যোগ

বাংলাদেশে গ্রন্থাগার ও তথ্য সেবা সম্পর্কিত এখন পর্যন্ত যে কয়টি গবেষণা হয়েছে, ব্যাপকতার দিক থেকে ‘লাইব্রেরী ল্যান্ডস্কেপ এসেসমেন্ট অব বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশের গ্রন্থাগার সেবার বিশ্লেষণ’ তার মাঝে অন্যতম। বাংলাদেশ সরকার, ব্র্যাক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে সাথে নিয়ে বিটিশ কাউন্সিল এই গবেষণাটির উদ্যোগ নেয়। গবেষণাটির পরিকল্পনা, পরিচালনা ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব দেয়া হয় ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেটিকস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) -কে।

এই গবেষোণাটির উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশের গ্রাম, শহর ও শহরতলী এলাকাগুলোতে গ্রন্থাগার ও অন্যান্য তথ্য সেবার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মুল্যায়ন করা যা থেকে এধরনের সেবার গুণ ও মান উন্নয়নের জন্য কী কী করণীয় তার একটি পরিস্কার ধারনা পাওয়া যাবে। এই বিশ্লেষণধর্মী গবেষণাটি বাংলাদেশের বিদ্যমান গ্রন্থাগার ও তথ্য সেবার বর্তমান হাল-চিত্র বিশদ ভাবে তুলে ধরেছে। সেই সাথে জনগনের এধরনের সেবার চাহিদা বিশ্লেষণ করে কী ভাবে এই সব সেবাকে আরও বিস্তৃত, উন্নত ও কার্যকর করা যায় সেই দিকনির্দেশনাও দেয়ার প্রয়াশ পেয়েছে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন এই পোর্টালে ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে

Share

FACEBOOK
TWITTER
GOOGLE
http://obhimat.com/lis/7-oldest-libraries/">
SHARE

Comments

comments

No comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>